
শিক্ষকদের নিয়ে লেখার সময়, সুযোগ, মানসিকতা আর থাকেনা। আর লিখে কি লাভ? শোনার মত কেহ আছে কি না মাঝে মধ্যে সন্দেহ হয়। যদিও ধ্রবতারার মত সত্য হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা ডিপার্টমেন্টে একটা চেইন অব কমান্ড রয়েছে। কিন্তু বটম লেয়ারের হাক চিৎকার টপ লেয়ারে পৌছে না। কেন পৌছেনা না সেটা কোটি টাকা দামের প্রশ্ন হতে পারে।
প্রতি বছর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের জন্য একটা নির্ধারিত দিন আছে সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হন। যেমন ডিসি সম্মেলন, পুলিশ সপ্তাহ, শিক্ষা সপ্তাহ ইত্যাদি। ডিসি সম্মেলনে ডিসিরা তাদের বিভিন্ন দাবী উত্থাপন করেন।পুলিশ সপ্তাহে উত্তাপিত হয় পুলিশের বিভিন্ন দাবি। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে প্রাথমিক শিক্ষকদের কোন দাবি উত্থাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমি জানিনা। আমরা শিক্ষা বিলিয়ে দেই। মাঠ পর্যায়ে রাষ্টের যত কাজ আছে সকল কাজে আমাদের প্রয়োজন হয় কিন্তু আমরা রা করতে পারিনা। আমাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমাদের মন্ত্রী মহোদয় পর্যন্ত গেছি, আশ্বাস ছাড়া আর কিছু পাইনি।
গত ডিসেম্বরে প্রথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি কাঠামো ওয়েবসাইটে প্রদান করা হয়।সেই কাঠামোতে অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ ব্যক্তি মহাপরিচালক এবং নিচের দিকে পরিচালক, উপপরিচালক, বিভাগীয় উউপরিচালক, ডিপিও পর্যন্ত ব্যক্তি তারপর উপজেলা শিক্ষা অফিস, সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে আছেন প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক। কাঠামোর সকল স্তরে আছে ব্যক্তি কিন্তু শেষ দুই স্তরে প্রতিষ্ঠান। এটা কোন নিয়মে, কোন উদ্দেশ্য করা হল? আবার অধিদপ্তরের নিজস্ব দপ্তরে সর্বশেষ স্তর হচ্ছে অফিস সহায়ক। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকের মর্যাদাকে খাটো করা হচ্ছে কি না?
গত কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।সেখানে যোগ্যপ্রার্থী পাওয়া না যাওয়ায় অনার্স পাশ কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়, তারা মাস্টার্স অধ্যয়নরত রয়েছেন। তাই তারা অচিরেই যোগ্যতা অর্জন করে ফেলবেন।আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে সকলেই আছেন যারা সকল যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই চাকুরিতে এসেছেন। কিন্তু নিজের যোগ্যতাকে আরো শানিত করার জন্য কিংবা যারা অধ্যয়নরত অবস্থায় চাকুরিতে ঢুকেন তারা বিভিন্ন শর্তের ভেড়াজালে পড়ে পরীক্ষার অনুমতি পান না। আর প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমতি পাওয়া যায়, তা-ও আবার যদি সিইনএড/ডিপিএড করা থাকে। সিইনএড/ডিপিএড চাইলেই করা যায়না। সিরিয়াল আসতে অনেক সময় লাগে।তাহলে এই অযুহাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যাবে না, সেটা কী মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি নয়?
মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, প্রাথমিক শিক্ষা ডিপার্টমেন্টের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে উপরের স্তরের সবাই স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু পারেন না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রাথমিকে যারা চাকুরী করেন তারা কী রাষ্ট্রের চতুর্থ শ্রেণির নাগরিক?
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষকরা বছরে ছুটি পান ৮৫ দিন আর প্রাথমিকের শিক্ষকরা ছুটি পান ৭৫ দিন। কেন এই বৈষম্য?
সহকারী শিক্ষকদের সাথে প্রধান শিক্ষকদের বেতনের ব্যবধান তিন ধাপ।অথচ কয়েক বছর আগে সেটা ছিল মাত্র একধাপ। এটা কিভাবে হল? কোন যুক্তিতে হল? সবোর্চ্চ কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়েটি আনার পরও কেন সমাধান হচ্ছে না?
বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ সংখ্যা সীমিত। ফলে সকাল ৯ঃ১৫ থেকে বিকাল ৪ঃ৩০ পর্যন্ত একটানা ক্লাস করাতে হয়। এটা কিভাবে সম্ভব? এই অসম্ভব কাজটি করে যাচ্ছেন প্রাথিমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এরা মানব না দানব? এই মানব সন্তানরা কিভাবে এই দানবীয় কাজটি করে যাচ্ছেন? এটা উপলব্ধি করার মত কেহ কি নেই?
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায়, সরকারী মাধ্যমিক স্কুলের চেয়ে এমপিও ভুক্ত স্কুলের শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার। একই বই পড়িয়ে কেউ পাচ্ছে অবারিত সুযোগ আর কেউ কিছুই পাচ্ছেনা। এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়ার নামে যা পাচ্ছেন তাকে কিভাবে সজ্ঞায়িত করবো? কেউ পাবে, কেউ পাবেনা। কেউ খাবে, কেউ খাবেনা, তা কিন্তু মৌলিক গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
এইরকম শত শত বিষয় আছে যা লিখতে লিখতে কলমের কালি শেষ হয়ে যাবে
মোহাম্মদ আজাদ মিয়া
সহ. শিক্ষক ও লেখক
01717652231
No comments:
Post a Comment